আর কয়েক দিনের মধ্যেই শহর-গঞ্জের স্কাইলাইনটা হলুদ আর আকাশি রঙে সয়লাব হয়ে যাবে। ফুটবলের মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপ যে প্রায় সন্নিকটে। শুরু হয়ে গেছে দিনক্ষণ গণনার পালা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঈদের আনন্দও। সেই আনন্দ বাড়াতে ঈদের কেনাকাটার অনুষঙ্গ হিসেবে যুক্ত হয়েছে টিভি। কেউ কিনতে চাইছেন স্মার্ট টিভি তো কেউ বা বড় পর্দার টিভি। বসে নেই ব্যবসায়ীরাও। নতুন নতুন মডেলের টিভি আর ছাড় নিয়ে তাঁরাও হাজির হয়েছেন এই আনন্দযজ্ঞে।
টিভি আছে হরেক রকমের
সাদাকালো টিভির যুগ পেরিয়েছে সে অনেক কাল হয়েছে। রঙিন টেলিভিশন সিআরটি মনিটর থেকে হয়েছে এলসিডি। কিছুটা পাতলা হলেও সেটি এখন আরো উন্নত করে হালে জনপ্রিয় হয়েছে এলইডি টিভি। এখন বাজারে এর থেকেও উন্নত প্রযুক্তি কিউএলইডি। শুধু তা-ই নয়, টিভিতে এখন অপারেটিং সিস্টেমও যুক্ত হয়েছে।
বেসিক টিভি
একেবারে সাধারণ টিভি এই বেসিক টিভি। টেরেস্ট্রিয়াল টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি ডিশ আর ডিভিডি প্লেয়ারের মাধ্যমে এসব টিভিতে নাটক, সিনেমা দেখা যায়। এর বাইরে গিয়ে এসব টিভিতে বাড়তি কিছু করা যায় না।
স্মার্ট টেলিভিশন
বাজারে নামিদামি সব ব্র্যান্ডই এখন স্মার্ট টিভিতে জোর দিয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা এর অন্যতম কারণ। এসব টিভিতে কম্পিউটার ও ফ্ল্যাট টিভির ধারণা কাজে লাগানো হয়েছে। এসব টিভিতে ইন্টারনেট সরাসরি সংযোগ করে সাধারণ স্যাটেলাইট সংযোগের বাইরেও কাজ করানো যায়। চালানো যায় ইউটিউবসহ বেশ কিছু ফিচার। স্মার্ট টিভিতে মূলত ওয়েব ২.০ ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এই টিভিকে আবার ‘ইন্টারনেট টিভি’ও বলা হয়ে থাকে। এই টিভিতে কেব্ল্ ছাড়া ওয়াই-ফাই দিয়ে ইন্টারনেট সংযুক্ত করা যায়। তা ছাড়া বেশির ভাগ ব্র্যান্ডেড স্মার্ট টিভিতেই ‘কাস্ট’ সুবিধা আছে। এই সুবিধার ফলে ‘কাস্ট’ সুবিধাযুক্ত মোবাইল থেকে স্মার্ট টিভিতে তথ্য আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন অ্যাপও পরোক্ষভাবে চালানো যাবে। অর্থাৎ আপনি যদি মোবাইল থেকে কোনো মুভি চালু করেন, সেটি সরাসরি আপনার স্মার্ট টিভিতে দেখা যাবে। মোদ্দা কথা, মোবাইল আর টিভির মধ্যে ‘কাস্টিং’ করার পর মোবাইলে যা কিছু করা হোক না কেন, সহজেই দেখা যাবে স্মার্ট টিভিতে। এ জন্য শুধু দুই ডিভাইসের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে হবে।
অ্যানড্রয়েড টিভি
স্মার্ট টিভির উন্নত সংস্করণই বলা যায় ‘অ্যানড্রয়েড টিভি’কে। কেননা এই টিভির অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যানড্রয়েড দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে অ্যানড্রয়েড ফোনের মতোই বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। এটিতেও ইন্টারনেট ব্রাউজ, বিভিন্ন অ্যাপ থেকে সরাসরি কাজ করা যায়। অ্যানড্রয়েড টিভির বড় সুবিধা হচ্ছে, দেশি-বিদেশি ‘স্ট্রিমিং চ্যানেল’গুলো থেকে সরাসরি বিনা মূল্যে ছবি, টিভি ধারাবাহিক দেখা যায়। এ জন্য অবশ্য গুগল প্লেস্টোর থেকে সংশ্লিষ্ট স্ট্রিমিং চ্যানেলের অ্যাপ নামিয়ে নিলেই হবে। এসব অ্যাপে অনেক সময় দেশি টিভি চ্যানেলগুলোও দেওয়া থাকে। চাইলে আলাদা আলাদা করে একেকটি টিভি চ্যানেলে অ্যাপও নামিয়ে নেওয়া যায়। ফলে বাসায় ডিশ না থাকলেও অ্যানড্রয়েড টিভিতে সহজেই ডিশের চ্যানেলগুলো দেখা যাবে।
মোবাইলের অনেক গেইমই এখন অ্যানড্রয়েড টিভির কল্যাণে বড় পর্দায় খেলা যায়।
থ্রিডি টিভি
থ্রিডি বা থ্রি ডাইমেনশন। এই প্রযুক্তির ফলে মানুষ সাধারণত যেভাবে তার প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে, পর্দাও ঠিক তেমনই বাস্তবতার অনুভূতি পাবে। তবে এই টিভি দেখতে হলে দর্শকদের ব্যবহার করতে হবে বিশেষ চশমা। অনেক কম্পানি নিজেদের টিভির সঙ্গেই চশমা দিয়ে দেয়। না হলে আলাদাভাবে চশমা কিনতে হয়। এসব টিভিতে কনসোল লাগিয়ে থ্রিডি গেইমও খেলা যায়। বাজারে স্যামসাং, সনি, এলজিসহ বড় নামিদামি কয়েকটি ব্র্যান্ডের থ্রিডি টিভি পাওয়া যায়।
আরো আছে
অ্যানড্রয়েড টিভি ছাড়া আরো আছে ফোরকে টিভি, এইচডি টিভি। এই নামের অন্যতম কারণ হলো, টিভিগুলোর রেজল্যুশন। রেজল্যুশনের ওপর ভিত্তি করেই এমন নামকরণ হয়ে থাকে। এ ছাড়া বাঁকানো পর্দা বা কার্ভ টিভির চাহিদাও বাড়ছে। ঘরের এক কোণে রেখে যেকোনো কোণ থেকেই এই টিভি দেখার সুবিধা আছে।
পরিশেষে বলতে হয় কী ধরনের টিভি আপনার জন্য প্রযোজ্য সেটা আপনাকেই বেছে নিতে হবে। কেননা আপনার বাজেট, পছন্দ আর ড্রইং রুমের ওপর নির্ভর করবে টিভির মডেল আর আকার কী হবে।







0 মন্তব্যসমূহ