মূলধন ছিল একটা স্মার্ট ফোন আর ল্যাপটপ। আর ছিল অনেক বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিশ্রমের কমতি রাখেননি ওপার বাংলার দেগঙ্গা-হাবড়া লাগোয়া বদর কলোনি মোড়ের বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী আল আমিন রহমান। চাকরি করার কোনো ইচ্ছাই নেই তার। কিন্তু ইউটিউবে আপলোড করা তার ভিডিও কাজে আসে সরকারি চাকুরিপ্রার্থী বেকার তরুণ-তরুণীদের। বছর দেড়েক ধরে আল আমিনের চেষ্টায় এখন তার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ১ লক্ষ ১৪ হাজার।
সম্প্রতি 'সিলভার প্লে বাটন' দিয়ে আল আমিনকে সম্মান জানিয়েছেন ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের সূত্রেই এখন মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা রোজগার করেন আল আমিন। জানা যায়, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তিনি। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে স্কুলের এক শিক্ষক ইউটিউবে দেখিয়েছিলেন এলইডি আলো-সহ নানা বিষয়। যা মনে গেঁথে গিয়েছিল আল আমিনের। তখন থেকেই মাথায় ছিল, অন্য রকম কিছু একটা করবেন।
একটা সময় তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেন, আর্থিক অনটনের কারণে বহু ছেলেমেয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য ঠিক কোচিং নিতে পারেন না। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় কীভাবে সফল হওয়া যায়, তার সঠিক গাইডলাইনও থাকে না বহু ছেলেমেয়ের কাছে।সরকারি চাকরি প্রার্থী ওই সব বেকার তরুণ-তরুণীদের কীভাবে সাহায্য করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে পরিকল্পনাটি মাথায় এসেছিল আল আমিনের। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ইউটিউবে খুলে ফেলেন নিজস্ব এডুকেশন চ্যানেল। নাম দিয়েছেন, 'দ্য ওয়ে অব সল্যুশন।'
এই চ্যানেলের মাধ্যমেই এখন আল আমিন বেকার তরুণ-তরুণীদের সরকারি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হওয়ার তালিম দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত। প্রতিদিন সাধারণ জ্ঞান, সাম্প্রতিক ঘটনা, অঙ্ক-সহ নানা বিষয়ে টিপস চ্যানেলটিতে আপলোড করা হয়। পাশাপাশি তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব ওয়েবসাইট। সেখানে পিডিএফ ফাইলও দেওয়া হচ্ছে। কেউ কিছু বুঝতে না পারলে তারা 'কমেন্ট' করে জানতে চাইছেন। সেই মতো সমস্যার সমাধানও দিচ্ছেন আল আমিন। ওই কাজের জন্য অবশ্য রাতদিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। আগে ভিডিও পোস্ট করতেন। এখন 'লাইভ' করেন।
আল আমিনের চ্যানেলের মাধ্যমে অনেকে উপকৃত হয়েছেন। যারা বিভিন্ন পরীক্ষায় সফল হচ্ছেন, তারা ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মূলত, পিএসসি, পুলিশ, আরপিএফ ও রেলের চাকরির পরীক্ষার টিপস দেওয়া হয় আল আমিনের ইউটিউব চ্যানেলে। আরও বড় পরিসরে কাজ এগিয়ে নিয়ে চান আল আমিন।
দুই ভাইয়ের মধ্যে আল আমিন বড়। বাবা শাহাজুর রহমানের নির্মাণ ব্যবসা রয়েছে। চাকরির ইচ্ছা না থাকলেও পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরবেন বলে আল আমিন বারাসতের একটি বেসরকারি কলেজে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়ছেন। বিজ্ঞানের কৃতী ছাত্র উচ্চমাধ্যমিকে ৮২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। আল আমিন বলেন, 'চ্যানেলের মাধ্যমে মানুষকে সাহায্য করতে পারছি, তাদের ভালবাসা পাচ্ছি; এর থেকে বড় পাওয়া জীবনে আর কী হতে পারে! যত দিন পারব, এই দায়িত্ব পালন করে যাব।'






